Wednesday, February 1, 2023

স্বাস্থ্য বিভাগের বন্ধ ঘোষনার পরও সীমান্ত ডায়াগনস্টিকে চলছে জমজমাট ব্যবসা

স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে বন্ধ ঘোষণার পরও চলছে যশোরর ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুরের বহু বিতর্কিত সীমান্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ২০২২ সালের ৩০ মে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে প্রতারণার দায়ে বন্ধ হয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে, নতুন করে আবারও আলোচনায় এসেছে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে প্রেমিকা শ্রাবন্তি আক্তারকে মৃত ঘোষণা করার পর।  জনমতে প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য বিভাগের খাতায় বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠান থেকে কেমন করে রোগীকে ডাক্তার হাসানুজ্জামান মৃত ঘোষণা করলেন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

- Advertisement -

তারা জানান, এ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দুইশ’ টাকা ভিজিট নিয়ে রোগী দেখছেন গঙ্গানন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মফিজুরজু রহমান লাল্টু। আর প্যাথলজি বিভাগ সামাল দিচ্ছেন হুমায়ুন কবির নামে এক মেডিকেল এসিস্ট্যান্ড। সূত্র জানায়, নড়াইল জেলার ভুয়াখালীর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শেখ নুরুর ছেলে হুমায়ুন কবির। তার এ বিষয়ে কোনো সনদই নেই। একই প্রতিষ্ঠানে ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ সেজে প্রতারণা করছেন গঙ্গানন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মফিজুর রহমান লাল্টু।  সাইনবোর্ডে ব্যবহার করছেন ডাক্তার মফিজুর রহমান লাল্টু, ডিএমএফ (ঢাকা), বিএইচএস (স্বাস্থ্য)। চিকিৎসা শেষে নিজের প্যাডে লিখে দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশনও। এ প্রতিষ্ঠানে হোমিও, হারবাল, আয়ুর্বেদিক, অ্যালোপেথিকসহ সব ধরনের ওষুধ বিক্রি চলছে। শুধু তাই নয়, গ্রামের দরিদ্র মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে  কৌশলে তাদের ভাগিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে আনা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে । সীমান্ত ডায়াগনস্টিক এন্ড ডায়াবেটিক কেয়ারে রোগীদের সকল প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ইসিজি ও ডায়াবেটিক রোগীদের বইসহ চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন তিনি। অথচ এখানে কোনো প্যাথলজিস্ট বা মেডিকেল অফিসার নেই। কম্পিউটারে প্রিন্ট করে রোগীকে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে রিপোর্ট অন্যদিকে হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা।

ডাক্তার মফিজুর রহমান লাল্টুর ভাই  মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। শ্রাবন্তি আক্তারের মৃত্যু নিশ্চিত করার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, সোমবার তিনটার দিকে মেয়েটিকে মৃত অবস্থায় তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এখান থেকে কেউ রোগীকে মৃত ঘোষণা করেননি। তাকে সরকারি হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বন্ধ প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, বন্ধ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবা প্রদান কারার কোনো সুযোগ নেই। যদি করে থাকে তাকে রোগীর সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত আছে।

বিশেষ প্রতিনিধি

- Advertisement -

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ